Showing posts with label Wall. Show all posts
Showing posts with label Wall. Show all posts

25 March 2016

বদেশ্বরী মন্দির

বদেশ্বরী মন্দির

বদেশ্বরী মন্দিরটি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মৌজায় অবস্থিত। হিন্দুধর্মের ১৮টি পুরাণের স্কন্দ পুরাণ মতে, রাজা দক্ষ একটি যজ্ঞানুষ্ঠান করেছিলেন। ভোলানাথ শিব রাজা দশরথের জামাই ছিলেন। রাজা দশরথ শিবকে জামাই হিসেবে মানতে পারেন নি। কারণ, মহাবীর শিব সর্বদাই ছিলেন উদাসীন এবং নেশাগ্রস্থ ও ধ্যানগ্রস্থ। উক্ত যজ্ঞানুষ্ঠানে মুনিঋণিগণ ও দেবদেবতাগণ নিমন্ত্রিত হলেও রাজা দশরথের জামাই তথা দেবী দুর্গা (পার্বতী/মহামায়া)-র স্বামী ভোলানাথ শিব নিমন্ত্রিত ছিলেন না। এ কথা শিবের সহধর্মিনী জানামাত্রই ক্ষোভে যজ্ঞে আত্মাহুতি দেন। শিব তাঁর সহধর্মিনীর মৃত্যুযন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে উন্মাদ হয়ে তাঁর সহধর্মিনীর শবদেহ কাঁধে নিয়ে পৃথিবীর সবখানে উন্মাদের মত ঘুরতে থাকেন এবং প্রলয়ের সৃষ্টি করেন। সে মুহূর্তে স্বর্গের রাজা বিষ্ণুদেব তা সহ্য করতে না পেরে স্বর্গ হতে একটি দুদর্শনচক্র নিক্ষেপ করেন। চক্রের স্পর্শে শবদেহটি ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়। বাংলাদেশে পড়ে এর ২টি খণ্ড। একটি চট্রগামের সীতাকুণ্ড এবং অপরটি পঞ্চগড় জেলার বদেশ্বরীতে। মহামায়ার খণ্ডিত অংশ যেখানে পড়েছে তাকে পীঠ বলা হয়। বদেশ্বরী মহাপীঠ এরই একটি। উক্ত মন্দিরের নাম অনুযায়ী বোদা উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে।
পাঁচ শো বছরের পুরোনো এই মন্দিরের নামে বোদা উপজেলার নামকরণ হয় বলে ইতিহাসবেত্তাদের ধারণা । কারো কারো মতে, একসময় এ অঞ্চল কাদায় পূর্ণ ছিল । ‘কাদা’র সমার্থক শব্দ ‘বোদ’ আর এ থেকে বোদা নামের উৎপত্তি ।
ইতিহাস জানাচ্ছে, বোদা অঞ্চল ছিল বৌদ্ধ ও হিন্দু ব্রাহ্মণ অধ্যুষিত জনপদ। খ্রীস্টীয় দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকে পঞ্চগড়সহ সমগ্র উত্তর বঙ্গ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। বগুড়ার মহাস্থান গড়ে প্রাপ্ত ওই সময়কার শিলালিপি এবং ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিব্বত অভিযানে ব্যর্থ ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি অহমিয়া দস্যুদের আক্রমণের ভয়ে তুর্কী ঘোড়সওয়ার বাহিনী নিয়ে বদেশ্বরীর কাছ দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা করতোয়া নদী পাড়ি দিয়ে নেকমদের দিকে রওনা কালে সাঁতারে অনভ্যস্ত তুর্কী বাহিনীর অনেক ঘোড়সওয়ার ঘোড়সহ ডুবে মারা যায় । নদী পেরোতে গিয়ে ঘোড়াসহ সৈন্য মারা পড়ায় বড়শশী ইউনিয়নের করতোয়া নদীর ওই ঘাটটি এখন ‘ঘোড়ামারা ঘাট’ বা ‘ঘোড়াঘাট’ নামে পরিচিত। বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট সৈন্য নিয়ে অহম দস্যুদের ভয়ে খিলজি করতোয়া তীরের জঙ্গলে একটি ভাঙা মন্দিরে আশ্রয় নেন । পরে তিনি দেখতে পান, আশ্রয়স্থলটি ছিল একটি ভাঙা দুর্গ। সেটি বদেশ্বরী মন্দির ।
পাল রাজারা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বদেশ্বরীতে নির্মাণ করেন দুর্গ । পরে এ মন্দিরের অনেকবার সংস্কার করা হয়েছে।

ইতিহাস ও পুরাণ ছাপিয়ে বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দিরটি বর্তমানে একটি প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন।



বদেশ্বরী মন্দিরটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে

এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও পৌরাণিক মূল্যও অসামান্য নয়

পাশেই নির্মিত হচ্ছে নতুন মন্দির

আলোছায়ায় অদ্ভুতুড়ে বদেশ্বরী
 
ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রঙ

গাছপালাঘেরা ছিমছাম পরিবেশ চারপাশে

দৃষ্টিনন্দন নকশা দেয়ালে

সামনেই বিশাল একটি বর্ষীয়ান গাছ

Temple of Bodeswari, 
Boda, Panchagarh

22 March 2016

সাতৈর মসজিদ

সাতৈর মসজিদ

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলার সাতৈর গ্রামে এ মসজিদটি অবস্থিত। নয় গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি সুলতান হুসেন শাহ তার পীরের সম্মানে নির্মাণ করেন। কালপরিক্রমায় মসজিদটি ঘন বনের মধ্যে ঢাকা পড়ে যায়। বিশ শতকের শুরুর দিকে আশেপাশে ঘন বসতি গড়ে ওঠায় মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। স্থানীদের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে গড়ে উঠেছে; এটি গায়েবী মসজিদ নামে সুপরিচিত। সম্প্রতি মসজিদটির ব্যাপক সংস্কার আর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে এর পরিবর্ধনের কাজ।















Satoir Mosque, Boalmari, Faridpur

আঠার বাড়ি জমিদার বাড়ি

আঠার বাড়ি জমিদার বাড়ি

আঠার বাড়ি জমিদার বাড়িটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। বিশাল এ জমিদার বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে আঠার বাড়ি রাজবাড়ি নামে পরিচিত। পলেস্তারা খসেপড়া বিশালায়তনের ভুতুড়ে এ বাড়িটির একদিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আঠার বাড়ি ডিগ্রি কলেজ ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে। একে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একমাত্র দর্শনীয় স্থান বলার উপায় নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজ ফটকে “ বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ” সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। সুতরাং যেতে হবে অসময়ে যখন ক্লাস ছুটি থাকে।
খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ আশিষ চৌধুরীর ‘রবীন্দ্রনাথের পূর্ববঙ্গ ভ্রমণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ অনুসারে জানা যায়, ‘আঠারবাড়ির সর্বশেষ জমিদার প্রমোদ চন্দ্র রায় চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনের ছাত্র ছিলেন। সে সুবাদে কবির সাথে প্রমোদ চন্দ্রের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ফলে বিশ্বকবি যখন তৎকালীন এই পূর্ববঙ্গে, বিশেষ করে ময়মনসিংহ ভ্রমণে আসেন, তখন কবিগুরু তার ছাত্রের আমন্ত্রণ রক্ষা করেছিলেন। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে আঠারবাড়ি জমিদার বাড়িতে আসেন।
চারদিকে ঘন বনঘেরা বিশাল জমিদার বাড়ির অন্তঃপুরের সামনের দিকে প্রাচীরবেষ্টিত একটি নয়নাভিরাম পুকুর রয়েছে। কথিত আছে, এক সময় এ পুকুরে কুমির আর বড় বড় মাছ ছিল। এ পুকুরটি ‘রাণী পুকুর’ নামে খ্যাত। রাণী নিত্যদিনের স্নানের জন্যে তার অন্তঃপুর থেকে সুড়ঙ্গ পথে এ পুকুরে যাতায়াত করতেন। আছে বাঁধানো পুকুরঘাট। এখন নিঃস্তব্ধ পুকুর জুড়ে শুনসান নীরবতা।
পলেস্তারা খসে পড়ছে আঠার বাড়ির বর্ণহারা প্রতিটি দেয়াল থেকে; ক্রমশ ইতিহাসের অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে একদা সদর্পে বিচরণরত এখানকার রুচিশীল ক্ষমতাধর মানুষগুলির কথা। তাদের বিচরণ ইতিহাসও বিস্মৃতপ্রায়। শুধ লোকের মুখে ছড়িয়ে আছে অবিশ্বাস্য কিছু উপকথার সমাহার।


 আঠার বাড়ির মূল ফটকের সামনের পোড়োবাড়ি

আঠার বাড়ির প্রবেশদ্বার

চারপাশ থেকে ধ্বসে পড়েছে অবশিষ্ট প্রাসাদভবন

অন্দরমহল আজ শুধু পোকামাকড়ের ঘরবসতি

 বুনো ঝোপঝাড় রাজত্ব গড়েছে
বেদখল হয়ে যাচ্ছে আঠার বাড়ির সবকিছু

বাড়ির প্রাঙ্গনে আজ নেই কর্তার পদচারনা, নেই গিন্নি আর ঝিদের আনাগোনা

দুর্গসম সুরম্য দেয়াল থেকে খসে যাচ্ছে সুরক্ষা আর ইতিহাস 

খসে যাচ্ছে ইট, ধ্বসে পড়ছে দেয়াল, হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস

কোলাহলমুখর লোকালয় আজ পরিত্যক্তপ্রায় জনহীন অরণ্য

 রাণীপুকুর

নিরাপত্তা বলয়ের প্রাচীর বেষ্টিত রাণীপুকুরের প্রবেশপথ

গেইট এবং প্রাচীর নির্মাণের সময়কাল : কালের শ্যাওলা পাহারা দিচ্ছে বিবর্তনের ইতিহাস

আঠার বাড়ির জমিদার ভবন

 এখন আঠার বাড়ি ডিগ্রি কলেজ


জমিদার বাড়ির শৈলী


 আঠার বাড়ি জমিদার বাড়ি আগে ভরপুর থাকতো জমিদার, পাইক-পেয়াদা-চাকর-গোমস্তা-সেরেস্তাদার আর স্বজনে আর এখন ভরপুর থাকে বিভিন্ন শেণীর শিক্ষার্থীতে। কালের বিবর্তনে বদলায় পায়ের চিহ্ন আর কণ্ঠ।

Atharo Bari, Atharo Jamindar Bari
Mymensingh

মির্জাপুর শাহী মসজিদ

মির্জাপুর শাহী মসজিদ

সামনের অংশ
প্রবেশদ্বার



উত্তর-পশ্চিম দিক

এক সারিতে তিনটি গম্বুজ

সামনের দরজা

সুদৃশ্য টেরাকোটা

নান্দনিক নকশা 

সামনের পিলার

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে রয়েছে নিপুণশৈলিতে নির্মিত সৃদৃশ্য একটি মসজিদ যা মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত। তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। গম্বুজ তিনটি এক সারিতে অবস্থিতমসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে পারস্য ভাষায় লিখিত মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে একটি কালো পাথরের ফলক রয়েছে । তুঘরা রীতিতে লিখিত এ শিলালিপির ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয়, মোঘল সম্রা্ট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। দোস্ত মোহম্মদ নামে এক ব্যক্তি এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। শিলালিপি থেকে মির্জাপুর শাহী মসজিদের আদি নির্মাতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।

শিলালীপিতে মসজিদ প্রতিষ্ঠার তথ্য
মির্জা বংশের অভিমত, মির্জাপুর গ্রামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ফুল মোহাম্মদ এ মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। পরে ফুল মোহাম্মদের ভাই দোস্ত মোহাম্মদ এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। প্রবল ভূমিকম্পে এক সময় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুলুকউদ্দীন মসজিদটির মেরামত ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সম্পন্ন করেন। কথিত আছে, তিনি হুগলির মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ইরান থেকে কারিগর এনেছিলেন।
১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদের সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নির্মাণশৈলীর মিল রয়েছে। তাই ধারণা করা হয়, ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে অবস্থিত মসজিদের সমসাময়িককালে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় এবং সম্ভবত নির্মাতা ছিলেন একই ব্যক্তি। 
মসজিদটির দেওয়ালে টেরাকোটায় ফুল এবং লতাপাতার নকশা খোদাই করা রয়েছে। সামনের অংশে আয়তাকার টেরাকোটার নকশার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে  একটির সাথে অপরটির কোন মিল নেই। প্রত্যেকটি পৃথক পৃথক।
সামনের দেয়ালে রয়েছে লতাপাতার নকশাখচিত ছোট আকৃতির তিনটি দরজা। তিনটি দরজাতেই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণাকৃতির অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংঙ্করণে যুক্ত হয়েছে নান্দনিকতা।



নিয়মিত নামাজ আদায় হয়

ইমামবাড়া

মির্জাপুর শাহী মসজিদটির 20-25 ফুট দক্ষিণ দিকে রয়েছে মির্জাপুর ইমামবাড়া। ভুমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বিলীন হতে বসা এ ইমামবাড়ার বর্তমানে বেশকিছু সংস্কার করা হয়েছে। ভেঙে যাওয়া ছাদের অংশে পুরোনো রূপ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। পোড়ামাটির ইট নির্মিত ইমামবাড়া পোড়ো বাড়ি মনে হয়। এর প্রবেশপথ দিয়ে তাকালে একে কোন মন্দিরের অভ্যন্তরভাগের মতো মনে হয়। দক্ষিণমুখী মূল কক্ষের ভেতরে রয়েছে আরো একটি ছোট কক্ষ যার দরজা পূর্বমুখী। এর ছাদে রয়েছে একটি বড় গম্বুজ। সামনে এবং পাশে রয়েছে বাঁধানো কয়েকটি কবর।
মসজিদ এবং ইমামবাড়াকে অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে হয়।
ইমামবাড়ার প্রাঙ্গনের দৃশ্য



পোড়ামাটির স্থাপত্য

ইমামবাড়ার ভেতরের স্যাতস্যাতে দৃশ্য

ভেতরে অন্ধকারের বসতি আর অবহেলার রাজত্ব

পাশের করিডোর

করিডোর

ক্ষয়ে যাওয়া সৌন্দর্য

বহিরাঙ্গন

প্রবেশদ্বার

পঞ্চগড় জেলার ধাক্কামারা বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে আটোয়ারি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে যাওয়া যায়। আটোয়ারী থেকে বাসযোগে মির্জাপুর ৬ কিলোমিটার। মির্জাপুর বাজার থেকে পূর্ব দিকে রাস্তায় গ্রামের ভিতরের দিকে অবস্থিত মির্জাপুর জামে মসজিদ।

 Mirzapur Shahi Jam-E-Mosque
 Mirzapur Imambara